নেত্রকোনার দক্ষিণ সাতপাইয়ে দুর্গাপূজার মহানবমীর অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের পর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা। পরে এ ঘটনায় আহত ছাদ্দু চৌধুরী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

যুগভেরী ডেস্ক ::: নেত্রকোনার দক্ষিণ সাতপাইয়ে দুর্গাপূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পূজা আয়োজক ও হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে গুরুতর আহত ছাদ্দু চৌধুরী (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় পৃথক হত্যা ও ধর্ম অবমাননার মামলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১ অক্টোবর বুধবার মহানবমীর সন্ধ্যায় নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ সাতপাই গ্রামের নদীর পাড়ে একটি সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সেখানে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আয়োজক ও হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষের সময় ছাদ্দু চৌধুরী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ছাদ্দু চৌধুরীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে নিহতের বাবা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সাতপাই গ্রামের বাসিন্দা কৃতি সুন্দর সরকারকে প্রধান আসামি এবং তার বাবা কামেন্দ্র কুমার সরকারকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যা মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে নিউটন সরকার (২০) ও পিয়াস মজুমদারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিউটন সরকার সাতপাই গ্রামের প্রমতেস সরকারের ছেলে এবং পিয়াস মজুমদার প্রদীপ মজুমদারের ছেলে।
এদিকে, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি কৃতি সুন্দর সরকারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগেও পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় কৃতি সুন্দর সরকারকে ১ নম্বর আসামি, তার স্ত্রী তৃণা পুরকায়স্থকে ২ নম্বর এবং তার বাবা কামেন্দ্র কুমার সরকারকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংঘর্ষের সময় প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল এবং ছাদ্দু চৌধুরী কীভাবে গুরুতর আহত হয়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বলছেন, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ সাতপাই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যা মামলার দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি তৎপরতা চলছে।
তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।