
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ০৬/০২/২০২৬ ইংরেজী তারিখের নির্বাচনী জনসভায় সাবেক কাউন্সিলার সালেহ আহমদসহ প্রায় ৫০জন নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়ে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রতি ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তাদের যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কে সেই ছালেহ আহমদ সেলিম? এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ছালেহ আহমদ সেলিম ২২নং ওয়ার্ডের সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলার। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে ভোট জালিয়াতি করে তিনি সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় তার বাহিনীর নির্যাতন চরম আকারে বৃদ্ধি পায়। তার বাহিনীর সদস্যগণ প্রকাশ্যে সিএনজি স্টেশনে চাঁদাবাজি, উপশহরের প্রত্যেকটি দোকানে ও স্থানীয় বাজারে তাদের চাঁদাবাজির কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করা চরম হুমকির মুখে পড়ে। এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ছালেহ আহমদ সেলিম বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়। জানা যায়, রাস্তা সংস্কারের নাম করে উপশহরের এ বøক থেকে শুরু করে রোজভিউ পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের নাম করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকাবাসীর তথ্য মতে তিনি শাহজালাল উপশহর হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে জোর করে সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এই ছালেহ আহমদ সেলিম তার গায়ের জোরে অবৈধভাবে দু’জন শিক্ষক নিয়োগ করেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১ম এবং ২য় স্থান অধিকারী শিক্ষকদের নিয়াগ না করে অপেক্ষাকৃত কম মার্কস পাওয়া শিক্ষক নিয়োগ করেন বড় অংকের টাকার বিনিময়ে। তাৎক্ষণিক প্রধান শিক্ষক জনাব লুৎফুর রহমান চৌধুরী মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করলে প্রধান শিক্ষকের সাথে বিদ্যালয় সভাপতির বাক-বিতন্ডা হয় এবং প্রধান শিক্ষককে পাত্তা না দিয়ে দু’জন শিক্ষক নিয়োগ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জনাব লুৎফুর রহমান চৌধুরীকে তিনি কোন ক্রমে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য জনাব সামসুন নূর সাহেবের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব লুৎফুর রহমান চৌধুরী একজন ভাল প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বিশেষকরে সাবেক প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও লেখাপড়ার মান অনেক উন্নতি হয়েছিল। জনাব সামসুন নূর সাহেব বলেন, এই প্রধান শিক্ষক ইংরেজীতে ভাল একজন শিক্ষক ছিলেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুরোধে তিনি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে ইংরেজী ক্লাস নিতেন। প্রতিবেদকের কাছে শিক্ষানুরাগী আরও বলেন, ১দিন প্রধান শিক্ষক ক্লাস চলাকালীন সময়ে মোবারক হোসেন নামে ১টি ছেলে প্রকাশ্যে ইন্ডিয়া নামক ১টি মেয়েকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে তাকে জোর করে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে। প্রধান শিক্ষক সাথে সাথে বিষয়টি হস্তক্ষেপ করেন এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। আর এই মেয়েটি ১টি গরীব পিতামাতার সন্তান ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির ১টি সভা হয়। প্রধান শিক্ষক শৃঙ্খলা কমিটির কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাবৃন্দ এই মোবারক হোসেন নিয়ে অতীষ্ট ছিলেন। প্রত্যেক শিক্ষক/শিক্ষিকার ক্লাসে সে এইভাবে খারাপ আচরণ করতো। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করেন। প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের অনুরোধ এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মোবারক হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। বরখাস্ত করার পর প্রধান শিক্ষক জনাব লুৎফুর রহমান চৌধুরীর উপর নেমে আসে এক চরম বিপর্যয়। জানা যায়, এই মোবারক হোসেন ছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছালেহ আহমদ সেলিমের ভাগ্না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষককে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিলে, তিনি তার নীতির উপর ছিলেন অটল। সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীও বিদ্যালয়ে চাকুরী করতেন। তার দুই ছেলেমেয়েও এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মেয়েকে রাস্তায় হুমকিসহ প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে তারা শারিরীকভাবে নির্যাতন এমনকি তাদের দু’সন্তানকে সন্ত্রাসীরা কিডন্যাপ করে ২ ঘন্টা পর পুলিশের সহায়তায় কিডন্যাপকারীর হাত থেকে তার দু’ সন্তান রক্ষা পায়নি। প্রধান শিক্ষক ছিলেন একজন নিরীহ ও ভাল মানুষ। অপমানের ভয়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন, শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকের অফিসে গিয়েও কোন বিচার পাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয় ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করেও রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা তাকে খোঁজে বের করে। কোন উপায়ান্তর না পেয়ে তিনি তার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কানাডা চলে যান। জানা যায়, প্রধান শিক্ষক চলে যাওয়ার পর এই ছালেহ আহমদ সেলিম বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে বড় অংকের টাকা উত্তোলন করেন এবং বিদ্যালয়ের ফান্ড শূন্য হয়ে যায়। এক শিক্ষকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ফান্ড না থাকায় তারা তিন মাস যাবৎ বিদ্যালয় থেকে কোনো বেতন পাননি। এই তিন মাস তারা খুব মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন। এলাকাবাসীর তথ্য মতে এই ছালেহ আহমদ সেলিম তার ভাগিনা মোবারক হোসেন, ইব্রাহিম, বিজয়সহ আরও কিছু সন্ত্রাসী এই এলাকার ত্রাসছিল। এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের ভয়ে কথা বলতে পারতো না। বিএনপি’র সাবেক কাউন্সিলার জনাব সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন বলেন, এই সন্ত্রাসীরা বিএনপিতে যোগদানের ফলে বিএনপি জেলা কমিটিতে ভাঙগনের শোর উঠেছে। বিএনপি’র সিনিয়র কিছু নেতা মনে করেন তাদের যোগদানের ফলে বিএনপি সংগঠনের দুর্নাম হয়েছে। এলাকার প্রবীন মুরব্বি জনাব কাউছার রশিদ বলেন, এই সন্ত্রাসীদের জরুরীভিত্তিতে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা অপরিহার্য্য।