• ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন : আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের

Daily Jugabheri
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০১২
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন : আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষে প্রায় ১০/১১ জন উভয় দলের নেতাকর্মী আহত হন। ঐ সংঘর্ষের জেরে এম সি কলেজের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে ছাত্রাবাসের তিনটি ব্লকের ৪০-৪৫টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৭০টি কক্ষ। অগ্নিকান্ডে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায় ।

স্থানীয়দের বরাত জানা যায় যে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের চারটি ভবনের শতাধিক কক্ষে আগুন দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে নগরীর বালুচর এলাকায় এই সংঘর্ষে দু’পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংঘর্ষের পরপরই ছাত্রাবাসে আগুন দেওয়া হয়। সিলেটের বৃহত্তম ওই কলেজের ছাত্রবাসের পাঁচটি ভবনে দুই শতাধিক কক্ষ রয়েছে।

অপরদিকে দমকল বাহিনীর কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করে বলে জানান সিলেট ফায়ার স্টেশনের সহকারী পরিচালক পরিমল কুন্ডু। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নেভানো হয়। কলেজ ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পরিদর্শনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। মন্ত্রী হওয়ার পরও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার ছাত্রজীবনের স্মৃতি বিজড়িত এই ছাত্রাবাসের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। নানা অনুষ্ঠানেও তিনি এই ছাত্রাবাসের ঐহিত্যের কথা বলতেন।  তিনি দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “প্রাচীন ও ঐহিত্যবাহী ভবন পোড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।”

স্থাপত্যকলায় সংশ্লিষ্টদের মতে, সেমি পাক্কা আসাম টাইপ- এর এত বিশাল ভবন বিশ্বের কোথাও হয়তো এখন আর অবশিষ্ট নেই। উপযুক্তভাবে বহির্বিশ্বে উপস্থাপিত হলে অনেক আগেই এ হোস্টেলকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করতো ইউনেস্কো। অথচ, আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে গেলো সিলেটবাসীর গর্বের এ ঐতিহ্য। ১৮৯২ সালে সিলেটের টিলাগড়ে রাজা গিরিশচন্দ্র রায় তাঁর পিতামহ মুরারি চাঁদের (এমসি) নামে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে ৬০০ শতক জায়গার ওপর আসাম ঘরানার স্থাপত্যরীতির সেমিপাকা কাঠামোর ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়।

ছাত্রাবাস পুড়ানো বিষয়য়ে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমরুল হাসান জানান, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বললে তিনি বলেন, আমাদের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়, সব ছাত্রশিবিরের চক্রান্ত, তারা এই ছাত্রাবাস পুড়িয়ে আমাদের উপর দায় দিতে চাচ্ছে, আর আমাদের কোন নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির এর পক্ষ থেকে বলা হয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে (ইসলামী ছাত্রশিবির) শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রাবাসে আগুন দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যবান পুস্তক ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা।

উল্লেখিত ঘটনা সম্পর্কে শাহপরাণ থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল মনোয়ার বলেন, সন্ধ্যায় শিবির নিয়ন্ত্রিত ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় এবং এর সূত্রধরে ছাত্রলীগকর্মীরা ছাত্রাবাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে বিশৃঙ্খলতার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার আবু জাফর মোহাম্মদ সিদ্দিক এর সহিত যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাদের জেলা প্রশাসন হইতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে গ্রেফতারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও এই বিষয়টি পর্যবেক্ষন করছি।

 রিপোর্ট প্রকাশের আগ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবির এম সি কলেজের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দেবাংশু দাস মিঠু, মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম আহমদ, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি আবু সরকার, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো: তাজিম উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্থ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোনান আহমদ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মৃদুল কান্তি সরকার, ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর হোসেন, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মো. আতিকুর রহমান, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শুসান্ত সরকার, আনওয়ার হোসেন, নির্ঝর আহমদ, জহিরুল ইসলাম, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হেসেন, আমির হোসেন, সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ ইমরান আহমদ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন রশিদ, মাসুক আহমদ, রাহেল আহমদ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ কবির আহমদ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুলেমান আহমদ, এম সি কলেজ ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দীন প্রমুখ সহ ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩৫ জনসহ মোট ১৩০ জনের বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন