
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক স্কুল শিক্ষিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা উবায়দুল্লাহ। এ বিষয়ে স্কুল শিক্ষিকা গতকাল বিয়ানীবাজার থানায় জিডি করেছেন। জিডি নং.১০/২০২২ (তারিখ: ১৩/০১/২০২২ ইং) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের মো: আব্দুল হাসিবের মেয়ে মনোয়ারা বেগম ২০১৮ সাল থেকে ছোটদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী রহমত উল্লাহর ছেলে ছাত্রলীগ নেতা উবায়দুল্লাহ মনোয়ারা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছে। স্কুলে যাওয়ার পথে নানা ধরনের পাঁয়তারা করে মনোয়ারা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। মনোয়ারা বেগম তা প্রত্যাখ্যান করলে উবায়দুল্লাহ তার পিছু ছাড়েনি। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায় মনোয়ারার বাবা মো: আব্দুল হাসিবের কাছে। মনোয়ারা বেগমকে তার কাছে বিয়ে না দিলে নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মো: আব্দুল হাসিব ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ানীবাজারের সদরপুর গ্রামের আসাদ উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেনের সাথে মনোয়ারাকে বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর বাবুল হোসেন ফ্রান্স চলে গেলে উবায়দুল্লাহ হিংস্র হয়ে ওঠে। আবারও পিছু নেয় মনোয়ারা বেগমের। স্কুলে যাওয়া আসার পথে নানা ধরনের অশালীন কথাবার্তা বলে। জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। এমনকি এসিড নিক্ষেপ করে জালিয়ে দেবে নয়তো প্রাণে হত্যা করবে বলে ধামকি দিয়ে আসছে বলে জানা যায়। এমতাবস্থায় শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। এ ব্যাপারে মনোয়ারা বেগমের বাবা মো: আব্দুল হাসিব অভিযোগ করেন, অনেক দিন ধরে উবায়দুল্লাহ তার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছে। উবায়দুল্লার নানা ধরনের হুমকি ধামকিকে উপেক্ষা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন মো: আব্দুল হাসিব। তবুও উবয়দুল্লাহ পিছু ছাড়ছে না। এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেও পুলিশের কোন সহযোগিতা পাননি। ওবায়দুল্লাহ ও তার পিতা সরকারদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তাদের প্রভাব অনেক বেশি। এমতাবস্থায় মেয়ের জীবন নিয়ে শংকায় রয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে ওবায়দুল্লাহর সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্কুল শিক্ষিকা থানায় জিডি করেছেন। এটা ব্যক্তিগত বিষয়। তবুও তদন্ত করে দেখা যাবে।