
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : রাজনৈতিক বিরোধিতার জের ধরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারে এলডিপি নেতার উপর স্থানীয় আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। আহতের নাম আব্দুল নূর। তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দক্ষিণ সুরমা উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক এবং ধরগাঁও রাজীবাড়ী গ্রামের মৃত আজিম উল্লাহর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমায় গতকাল এলডিপি এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানব^বন্ধনে স্থানীয় এলডিপির নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত ছিলেন আব্দুল নূর। এরই জের ধরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ক্যাডাররা সন্ধ্যায় আব্দুল নূরের উপর হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। দিনে দলীয় কর্মসূচী মানববন্ধন শেষে সন্ধ্যায় কামালবাজারে আব্দুল নূর তার মালিকানাধীন ইলেকট্রিক্যাল ও হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। দোকানের কর্মচারী জানান, স্থানীয় আওয়ামীলীগের অন্তত ১০/১৫ জন কর্মী লাঠিসোটাও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা দোকানে ঢুকে আব্দুল নুরের কাছে টাকা দাবী করে এবং এলডিপির রাজনীতি থেকে সরে আসতে বলে। আব্দুল নুর তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তাকে বাচাতে দোকান কর্মচারী এগিয়ে আসলে তাকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীরা দোকানে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং লুটপাট করে। তাদের উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল নূর। এসময় বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উচিয়ে ধামকি দিয়ে বলে-‘সরকারবিরোধী কোন কাজ করলে এমন পরিনতি বহন করতে হবে।’ পরে সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রক্তাক্ত আব্দুল নূর ও দোকান কর্মচারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আব্দুল নূরের ডান হাত ভেঙ্গে গেছে এবং নিতম্বে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানা গেছে। ডাক্তার জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশংকাজনক।
এ বিষয়ে আব্দুল নূরের পরিবার থেকে জানানো হয়, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচী পালনে আব্দুল নূর ব্যস্ত রয়েছেন। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা তার উপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসীদের ভাংচুর ও লুটপাটে অন্তত দোকানের প্রায় ৩ লাখ টাকার সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আব্দুল নূরকে প্রাণে হত্যার পরিকল্পনা করেই আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।
ঘটনা জানার পরপরই কামালবাজার দোকানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সুরমার কামালবাজারে একটি দোকানে ভাঙচুরের খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার একটি টিম সেখানে গেছে। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে তবে কে বা কারা এই হামলা করেছে এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’