• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গোলাপগঞ্জের যতরাইলে বসত বাড়িতে আগুন লেগে শিশুসহ নিহত ৪ : ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৬, ২০২২
গোলাপগঞ্জের যতরাইলে বসত বাড়িতে আগুন লেগে শিশুসহ নিহত ৪ : ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার যতরাইল গ্রামে বসত বাড়িতে আগুন লেগে ১ শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে যতরাইল গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের পুত্র মামুনুর রশিদের বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মামুনুর রশিদের ছোট ভাইয়ের বউ ফরিদা বেগম, আত্মীয় স্বপ্না বেগম, কাজের মেয়ে হাসি বেগম ও হাসি বেগমের ছোট মেয়ে রিমি বেগম। এ ঘটনায় মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে গতকাল ১৫ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ থানায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামী করে ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে ঘরের মধ্যে বৈদ্যুতিক সার্কিটে ত্রুটির কারণে রান্নাঘরে আগুন লেগে যায়। রান্না ঘর থেকে বেড রুম সহ ঘরের ৩টি রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন বাড়িতে থাকা লোকজন বাইরে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফরিদা বেগম, স্বপ্না বেগম, হাসি বেগম ও শিশু রিমি বেগম বাড়ি থকে বের হতে পারেননি। বাড়িতে আগুন দেখে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও আগুনে পুড়ে মারাত্মক দগ্ধ হন ফরিদা বেগম, স্বপ্না বেগম, হাসি বেগম ও শিশু রিমি বেগম। তাদের সমস্ত শরীর পুড়ে যায়। তাদেরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় গোলাপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবিদুর রহমান। তিনি জানান পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘরের বৈদ্যুতিক সটসার্কিটে ত্রুটি থাকায় আগুন লেগেছে। এ বিষয়ে এখন তদন্ত চলছে। আসামীকে আটক করতে পুলিশ সম্ভাব্য স্থানসমূহে অভিযান চালাচ্ছে।
বাড়ির মালিক মামুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, ২০১৫ইং সনে তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়ির বৈদ্যুতিক কাজ করার জন্য তিনি ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আহমদের মাধ্যমে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আবুল হোসেনের সাথে মৌখিক চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক মজুরীর টাকাও প্রদান করেন। কিন্তু কাজের মধ্যখানে ২০,০০০/- টাকার একটি কাজের বিল নিয়ে মিস্ত্রি আবুল হোসেনের সহিত তার মনোমালিন্যতা দেখা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন আবুল হোসেন। সময়মতো উচিত শিক্ষা দিবেন বলে ধামকি দেন বাড়ির মালিক মামুনুর রশিদকে। ২০১৬ইং সালে কাজ সম্পন্ন হলে ইঞ্জিনিয়ার এর মাধ্যমে আবুল হোসেনের সমস্ত মজুরি পরিশোধ করে দেন মামুনুর রশিদ। পরে বাড়িতে ইলেকট্রিক এর টুকটাক ত্রুটি দেখা দিলে আবুল হোসেনকে খবর দিলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি কখনো আসেননি। বাড়ির বৈদ্যুদিক লাইন ত্রুপিপূর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালে আগুন লেগে ঘরের ব্যবহৃত ফ্রিজ সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর বেশ ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে মামুনুর রশিদ গ্রামের মুরব্বিয়ানগণকে অবগত করেন। তবে আবুল হোসেনের অসহযোগিতার কারণে কোন সুরাহা হয়নি। সময়মতো জবাব পাইবেন বলে মামুনুর রশিদকে ধামকি দেন আবুল হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে মামুনুর রশিদের বাড়িতে সটসার্কিটে আগুন লেগে তা বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিহত হন ৪ জন। ক্ষতি হয় প্রায় ১০ লক্ষ টাকার। ঘরে বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটিপূর্ন কাজের জন্য এ আগুন লেগেছে বলে অভিযুক্ত করা হয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আবুল হোসনকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন