• ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ফেঞ্চুগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২৩
ফেঞ্চুগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র  করে সৃষ্ট সংঘর্ষে এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী লেবু মিয়া (২৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের  করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত এই মামলাটির নম্বর ৬৫ (জি.আর মামলা নং-৩৮৪)।

জানা যায়, গত ১৬ মার্চ ২০২৩ তারিখে ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ জিলু বিজয়ী হলে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুদু মিয়ার সমর্থকরা  ফলাফল মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং তা এক পর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী লেবু মিয়া। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ মার্চ তিনি মারা যান। নিহত লেবু মিয়া অত্র ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।

ছাত্রলীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

লেবু মিয়ার মৃত্যুর পরদিন, ২৩ মার্চ, নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় এই হত্যা মামলাটি (নং-৬৫) দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত ৭ জন হলেন— ১। জাহেদ আহমদ (৩০) ,  সভাপতি, ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, পিতা-ছোয়াব আলী, গ্রাম-চাঁন্দপুর  ২। কামিল আহমদ (২৬) সহ-সভাপতি, ৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ পিতা-মিছির আলী ,  গ্রাম-চান্দপুর, ৩। মাসুক মিয়া (৪২) সভাপতি, ৪ নং কুশিয়ারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, পিতা-আব্দুল হান্নান, গ্রাম-ইলাশপুর, ৪। জামাল আহমদ (২৫) , পিতা-সালাহ উদ্দিন, গ্রাম-খিলপাড়া  ৫। কাওছার হোসেন (২৪) পিতা-মনাই মিয়া, গ্রাম-চাঁন্দপুর, ৬। হেনু মিয়া (৩৫) পিতা-খালিক মিয়া, গ্রাম-নারায়নপুর, ৭) তানভির আহমদ (২৬) পিতা-শোহেল আহমদ, গ্রাম-রুকনপুর, সর্ব ডাক ও থানা-ফেঞ্চুগঞ্জ, জেলা-সিলেট। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সক্রিয় কর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমরা মামলাটি গ্রহণ করেছি এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন-পরবর্তী এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ফেঞ্চুগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন