
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::::: ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ও মংলারগাও গ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৫ টি বাড়িঘরে ও পাঁচটি দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে দোয়ারাবাজার ও পার্শ্ববর্তী মংলারগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক যুগভেরিকে বলেন, ‘ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ১৭ বছর বয়সী এক হিন্দু কিশোরকে আটকের পর গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত ইবনে সফিউল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি করেন’।
ভুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি পরিবার যুগভেরি প্রতিনিধিকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে দোয়ারাবাজার স্কুল মাঠে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে এসে দোয়ারাবাজার এর হিন্দুদের বাড়ি-দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। পরে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বুধবার বিকালে সরেজমিনে দোয়ারাবাজার ও মংলারগাও এ গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার বাসিন্দা রঞ্জন দাস, কানু দাস, মতি সুত্রধর, সুবোধ চন্দ্র দাস, বিনা সরকার, সঞ্জয় শীল, রণধীর সরকার, রনি সরকার, নৃপেন্দ্র চন্দ্র সরকার, সুজিত দাস, কৃষ্ণ মোহন দাস, দ্বিগেন্দ্র দাস সহ ২৫ জনের বসতঘর ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ জনের ঘর। পাশাপাশি বিপ্লব দাস, সুনীল দাস, রনি সরকার, নৃপেন্দ্র চন্দ্র সরকার, সজীব দাস ও কানু দাসের দোকানপাট ভাঙচুরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আক্রমণ চলাকালে এলাকাবাসী ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে পালিয়ে যায়। এলাকা ছেড়ে অনেকেই অন্যত্র চলে গেছে। এখনও তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা করলেও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি কেউ। এখনও আতঙ্কে আছেন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।