
শফিক রায়হান, সিলেট প্রতিনিধি :
একটি রাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু পুলিশ যদি সন্ত্রাসীর সাথে হাত মেলায়, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে; তাহলে নিরীহ জনগণ কোথায় যাবে? প্রায় ৬ মাসও হয়নি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। তারপরও পুলিশের ভূমিকা এখনও প্রশ্নবোধক। চাঁদাবাজি ও মানুষকে ‘সাজানো’ মামলার জালে জড়িয়ে হয়রানি করা এখনও পুলিশের নিত্যদিনের কাজ। আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো পুলিশের এ আচরণ যেন দেখার কেউ নেই। এ হয়রানি থেকে বাংলাদেশের মানুষ কবে মুক্তি পাবে?
কথাগুলো বলছিলেন, মোছা: আঙ্গুরি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী নারী।
গতকাল বুধবার (৯ জানুয়ারি ২০২৫ ইংরেজি) দৈনিক যুগভেরী অফিসে বসে ভীতিকর সময়ের কথাগুলো বলতে গিয়ে নিজের অজান্তে আঙ্গুরি বেগমের দু’চোখ গড়িয়ে পড়েছে অশ্রু।
আঙ্গুরি বেগম তার জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম নজু সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম নজু আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইংরেজি ষড়যন্ত্র করে আমার স্বামীকে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করান পরাজিত কমিশনার প্রার্থী সন্ত্রাসী নজরুল ইসলাম নজু। এরপর তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার স্বামীকে জেল হাজতে থাকতে বাধ্য করেন। এঅবস্থায় আমার ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন পিতার চিকিৎসা ও জামিনের ব্যবস্থা করার জন্য ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ইংরেজি দেশে ফিরে আসে। কিন্তু পুলিশ আমার ছেলেকেও নানাভাবে হয়রানি শুরু করে। আমার ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন ও এমাদ আহমদ-কে ওই পূর্বের মিথ্যা-ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় (যে মামলায় স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল) জড়িয়ে পুলিশ ফের দেশত্যাগে বাধ্য করে।
আঙ্গুরি বেগম আরও বলেন, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনৈতিক অত্যাচারে স্বামী ও সন্তানরা বাধ্য হয়ে দেশত্যাগ করলে; আমি এক কন্যা-কে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করছিলাম। এরপরও পুলিশি নির্যাতন একটুও কমেনি। বিভিন্ন সময় আমার স্বামী ও সন্তানদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালায়। স্বামী ও সন্তানকে না পেয়ে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করে। গত ৬ জুন ২০২৪ ইংরেজি পুলিশ বাড়িতে অভিযানে এসে মালামাল জব্দ করার হুমকি দেয় এবং আমাকে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। তখন এক চাচাতো ভাইয়ের সহায়তায় কিছুদিনের জন্য পুলিশি হয়রানি থেকে রক্ষা পাই।
তিনি তার খারাপ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ ইংরেজি পুলিশ আবারও আমার বাড়িতে এসে স্বামী ও সন্তানদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালায় এবং গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ আমার সাথে খুবই অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। পরে ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেনকে ধরতে পারলে গুম করার হুমকি দিয়ে যায়। এতে আমি ও আমার কন্যা খুবই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা হয় ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে। ওই সময় নজরুল ইসলাম নজু সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা করে চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হুমকি দেয়। আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পুলিশের বাড়াবাড়ি, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি বড় মেয়ের শশুর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হই।
কান্নাজড়িত কন্ঠে আঙ্গুরি বেগম বলেন, এখনও বাড়ি ফেরত যেতে পারছি-না। চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং নিরাপত্তার সাথে নিজের বাড়িতে থাকার সুযোগ করতে সাহায্য কামনা করছি।
তিনি রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রাখেন- আমি কি আইনের সাহায্য পাবো না? সন্তান মো: দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশের গুম করার হুমকির প্রতিবাদ জানান এবং মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে স্বামী ও সন্তানদের দেশে ফেরত আসতে সাহায্য করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।