
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীতে এক ছাত্রলীগ নেতার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় নগরীর আম্বরখানা এলাকায় সুনামগঞ্জের ছাতকের জাউয়াবাজার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল করিম শিপুর (২২) বাসায় এই অভিযান চালায় আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। এসময় কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও পুলিশ কর্তৃক ঐ ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের সদস্যদের হুমকী-ধামকী দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এই ঘটনার পর থেকেই সারাদেশের ন্যায় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অব্যাহতদ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় ছাত্রলীগ নেতা শিপুকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্তের কাজে বাসায় গিয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানের সময় শিপু বাসায় না থাকায় পুলিশ তার পিতা কাজী ফজলুল করিমকে (৬২) জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানা রকম হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কখনো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়নি। আন্দোলনের অনেক আগেই সে যুক্তরাজ্যে চলে গেছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এরপরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর আমাদের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমরা গ্রাম ছেড়ে শহরে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানেও শান্তি পাচ্ছিনা।
এদিকে অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরাখান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল আজিজ। তবে তিনি পরিবারের সদস্যদের হুমকী-ধামকী ও হয়রানীর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, মাহফুজুল করিম শিপুর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার উপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। সেই মামলার তদন্তের সার্থেই পুলিশ বাসায় গিয়েছিল।