• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

উন্নয়নশীল দেশের রাজনৈতিক দলগুলির আত্মবিশ্লেষণ জরুরি

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ২২, ২০২৫
উন্নয়নশীল দেশের রাজনৈতিক দলগুলির আত্মবিশ্লেষণ জরুরি

তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ বড় রহস্যময়! এই দেশগুলির বৈশিষ্ট্য ও সমস্যা প্রায় অভিন্ন। এইসব দেশে ক্ষমতা যাহার, সবকিছু এক সময় তাহাদের হইয়া যায়। তাহারা যেন দেশের মালিক বনিয়া যান। তাহাদের দাপটের নিকট অন্যদের টিকিয়া থাকাই দায়। তাহাদের কথামতো চলে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি স্পর্শকাতর বিভাগের একশ্রেণির লোকজনও। অনেক সময় তাহারা যাহা ইচ্ছা খুশি, তাহা করিতে পারেন, করিয়া থাকেন। তাহাদের কথামতো মামলা দেওয়া হয়, গ্রেফতার করা হয়। মামলা তুলিয়া নেওয়ার ঘটনাও ঘটে তাহাদের মর্জিমাফিক। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি রাতারাতি তাহাদের হইয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাহাদের সেবাদাসে পরিণত হয়। ইহাতে প্রশাসনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ইত্যাদি ক্ষুন্ন হয়।
gnews দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কিন্তু ক্ষমতা হইতে নামিয়া গেলে তাহারা আর যান কোথায়? এত বড় সংগঠন, তবু কিছু যায় আসে না। তখন তাহারা অনেক ক্ষেত্রে কেবল মার খাইতে থাকেন। তাহারা একইভাবে হামলা-মামলার শিকার হন। নিপীড়ন-নির্যাতনের কোপানলে পড়িয়া অনেক সময় তাহারা রাজপথে ঠিকমতো দাঁড়াইয়া থাকিতে পারেন না। অগত্যা আত্মগোপনে চলিয়া যান। মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল বাহির করেন। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলিতে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহা কি আমরা একবার ভাবিয়া দেখিয়াছি? কোন জাদুবলে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে এতটা প্রতাপশালী হন এবং ক্ষমতা হইতে নামিয়া গেলে এতটা হীনবল হইয়া পড়েন?

তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক দলগুলির উচিত এই ব্যাপারে আত্মবিশ্লেষণ করা। ক্ষমতায় গেলে তাহারা কীভাবে ও কেন স্বেচ্ছাচারী হইয়া উঠেন এবং ক্ষমতা হইতে নামিয়া গেলে অপমানিত ও অপদস্থ হইতে থাকেন, তাহা লইয়া তাহাদের গভীরভাবে ভাবিয়া দেখা দরকার। এইসব দেশে যদি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি শক্তিশালী হইত, যদি উন্নত পেশাদারিত্বের পাশাপাশি সর্বত্র নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠা করা যাইত, তাহা হইলে কেহই স্বৈরাচারী হইয়া উঠিতে পারিতেন না। কেহই ক্ষমতা হাতে পাইয়া ধরাকে সরা জ্ঞান করিতে পারিতেন না। আবার ক্ষমতা হইতে নামিয়া গেলেও বিনা কারণে তাহাদের হতাশায় নিমজ্জিত হইতে হইত না, দুর্দশা-দুর্বিপাকে পড়িতে হইত না। তাহাদের আর পালাইয়া বেড়াইতে হইত না।

উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজের মতো ব্যবহার করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, দলীয় ও গোষ্ঠী স্বার্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু যখন তাহারা ক্ষমতা হইতে বিচ্যুত হন, তখন তাহারা প্রশাসনিক শক্তির সহায়তা পান না বলিয়া হীনবল হইয়া পড়েন। দলীয় ও সাংগঠনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও তাহারা তখন খুব বেশি সুবিধা করিতে পারেন না। অথচ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হইল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি সমান ও বিধি মোতাবেক আচরণ করা। তাহারা যখন সরকার দলীয় নেতা-কর্মীর মতো আচরণ করেন, তাহাদের অন্যায় ও অবৈধ হুকুম মতো চলেন কিংবা সরকারি দল ও প্রশাসন মিলিয়া মিশিয়া একাকার হইয়া যায়, তখনই বিপত্তি দেখা দেয়। তখন যাহারা ক্ষমতার বলয়ের বাহিরে থাকেন, তাহাদের করুণ পরিস্থিতিতে পড়িতে হয়। দুঃখজনক ব্যাপার হইল, এইসব দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ইত্যাদি ক্ষেত্রে শহর-নগর এমনকি গ্রাম-গঞ্জের নেতা-পাতি নেতাদেরও প্রভাব বিস্তার করিতে দেখা যায়। তাহাছাড়া তৃতীয় বিশ্বের বহু দেশে সেই পঞ্চাশ-ষাট দশক হইতে অদ্যাবধি প্রশাসনিক সংস্কার তেমন একটা হয় নাই বলিলেই চলে। নাগরিক স্বাধীনতার অনুকুলে উপনিবেশিক কালা-কানুনের তেমন রদবদল হয় নাই। সেইজন্যই এইসব দেশ এই পরিস্থিতি হইতে খুব শীঘ্র পরিত্রাণ পাইবে বলিয়া মনে হয় না।

সংবাদটি শেয়ার করুন