• ২৭শে মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৫ই রমজান, ১৪৪৪ হিজরি

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ‘হামলা, গির্জায় ভাংচুর’

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ১১, ২০২০
কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে ‘হামলা, গির্জায় ভাংচুর’

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলাউড়া :::
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে দুপুরে খাসিয়াদের জমি উদ্ধার করলেন উপজেলা প্রশাসন। দিনের আলোয় জমি উদ্ধার করা হলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে রাতের আধারে খাসিয়া পুঞ্জিতে হামলা চালায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র রফিকবাহিনী। এমনটাই অভিযোগ ওই পুঞ্জির বাসিন্দাদের। এসময় তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় গির্জায় ভাংচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন খাসিয়ারা।
সোমবার সন্ধ্যায় এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এর আগে দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন অবৈধভাবে দখল করা পুঞ্জির একটি পরিবারের পান চাষের পাঁচ একর জমি উদ্ধার করে দেন। পরে রাতেই দখলদারদের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ খাসিয়া আদিবাসীদের।
এদিকে হামলা-ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাতেই জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় দখলমুক্ত পাঁচ একর জমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইছাছড়া পুঞ্জিতে ৫২টি খাসিয়া পরিবার থাকে। সেখানকার বাসিন্দা জেসপার আমলেংরংয়ের প্রায় পাঁচ একর জায়গায় একটি পানের জুম রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মধা ইউনিয়নের টাট্রিউলি গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী রফিক মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেসপারের জুমে ঢোকেন। সেখানে পাহারার দায়িত্বে দুই ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা পাহারাদারদের তাড়িয়ে জুমটি দখল করে নেন। এ ব্যাপারে জেসপার আমলেংরং রফিক মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল জুমে গিয়ে অভিযান শুরু করে। এ সময় জুমে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি কাঁচা ও টিন শেডের একটি আধা পাকা ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই জমি জেসপারকে বুঝিয়ে দেন।
এদিকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে রফিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুঞ্জির আশপাশে অবস্থান নেন। এক ব্যক্তির মুদি দোকানে হামলা-ভাঙচুর চালান। এরপর পাশে অবস্থিত পুঞ্জির গির্জায় ঢুকে দুটি জানালা ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করেন। এ সময় পুঞ্জির লোকজন বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। রাত নয়টার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ, ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় এবং স্থানীয় কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ রহমান ঘটনাস্থলে যান। টের পেয়ে হামলাকারীরা সটকে পড়েন।
কুলাউড়ায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিসত্তার খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং আজ মঙ্গলবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, পান চাষের জমি দখলমুক্ত হওয়ার জের ধরে রফিক মিয়া এবং তার পক্ষের লোকজন পুঞ্জিতে হামলা-ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর থেকে পুঞ্জির লোকজন খুবই আতঙ্কে রয়েছেন। তবে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা তাঁদের পাশে আছেন। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুঞ্জির লোকজনের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজারের আদালতে মামলা হবে।
ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলায় জড়িত কোনো লোককে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, সে জন্য দখলমুক্ত জমি আপাতত স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যানসহ দুই ইউপির সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোনো পক্ষ ওই জমিতে ঢুকতে পারবে না। ইউপির গ্রাম পুলিশের সদস্যরা জমিটি পাহারা দেবেন। খাসিয়া লোকজনের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে রফিক মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন