• ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বিয়ানীবাজারে আমন ধানের বাম্পার ফলন : পাকা ধানে নবান্নের বার্তা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ১১, ২০২০
বিয়ানীবাজারে আমন ধানের বাম্পার ফলন : পাকা ধানে নবান্নের বার্তা

সামিয়ান হাসান, বিয়ানীবাজার ::::
বিয়ানীবাজারে এবছর আমান ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে উপজেলায় এবছর ৯ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলেও কারেন্ট পোকা ও ধানের বিভিন্ন রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল চাষিরা। তবে কৃষি অফিসের পরামর্শে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করায় সে সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন পেয়ে কৃষকের মুখে ফুটেছে রাজ্যের হাসি।
আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় রোদ্রের তীব্রতা কমে গেছে। বাতাসের বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কুয়াাশায় ভরে যাচ্ছে চারপাশ। হেমন্তে শীতের আগমনী বার্তা যেমন পাওয়া গেছে। ঠিক তেমনি মাঠে মাঠে ধান পেকেছে সে বার্তাও পাওয়া গেছে। বিয়ানীবাজার উপজেলার চাষিরা নবান্নের আমেজ নিয়ে আমন ধান কাটতে শুরু করেছেন। আসছে নবান্নে উপজেলার গ্রামগুলো পিঠা পুলির উৎসবে সাজবে। অতিথি হবেন মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনরা। উপজেলার সর্বত্র চলছে তারই প্রস্তুতি।
এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দারা নবান্নের আমেজ নিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছেন। এখানকার চাষিরা সবার আগে আমন ধান কেটে ঘরে তোলেন। নবান্নকে ঘিরে এই ধান কাটা মাড়াই করে থাকেন এখানকার কৃষকরা। প্রতিবছরের উপজেলার মুড়িয়া হাওরসহ অন্যান্য ছোট-বড় হাওরেও ধান কাটা চলমান রয়েছে।
জানা যায়, চিরায়ত নিয়মে হেমন্তের মধ্যভাগে (প্রথম অগ্রাহায়ণ) নতুন ধান ঘরে তোলার পর বাঙালির নবান্ন উৎসব শুরু হয়। বাংলার কৃষক সমাজ প্রাচীন কাল থেকে নবান্ন উৎসব পালন করে আসছে। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করতে ভুলে যায়নি আজও। গ্রাম বাংলায় কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পরিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ীতে আমন্ত্রণ করে এনে নতুন চালের পোলাও, পিঠা ও পায়েসসহ নিত্য নতুন খাবার তৈরি করে ধুম-ধামে ভুঁড়ি ভোজের আয়োজন করে থাকে। দুই একটি গ্রামে অবশ্য নবান্নের আগাম আতিথেয়তা শুরু হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম্যবধূরা জামাইকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়িতে নবান্ন উৎসব করার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে। নবান্ন উৎসবে গ্রামের কৃষকেরা মিলে-মিশে গরু, মহিষ ও খাঁসি জবাই করে। হাট-বাজারের বড় মাছ কিনে আনে। এই নিয়মের ধারাবাহিকতায় কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে এখন ঐতিহ্যবাহী নবান্নের আমেজ।
আমন চাষি মো. ফারুক উদ্দিন জানান, এ বছর ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। প্রথমদিকে কারেন্ট পোকার আক্রমনে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় ছিল। তবে সময়মতো কৃষি অফিসের পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শেষ মুহুর্তে ভালো ফলন হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে কয়েক দিন ধরেই চাষিরা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, উপজেলায় মোট ৯ হাজার ২শ. ৬৫ হেক্টর জমিতে আমান ধান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা জুড়ে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদেরকে প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দেয়ার ফলে এবার এ উপজেলায় আমন ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন