• ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

নিজেকে জানাই পূর্বশর্ত

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ১৬, ২০২০
নিজেকে জানাই পূর্বশর্ত

প্রাচীনকালের ছোট্ট একটি গ্রিক দর্শনের নীতিবচন ছিল ‘নোথি সিউতন’, যাহা ইংরেজি অনুবাদে হইয়াছে Know thyself-বাংলায় আমরা বলি নিজেকে জানো। এই বাণীকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিলেন ভুবনখ্যাত গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, যাহার ফলে এই সুবচনটি পৃথিবীব্যাপী ছড়াইয়া পড়িয়াছে সক্রেটিসের বাণী হিসাবে। সক্রেটিসের শিষ্য জেনোফন ও প্লেটো যথাক্রমে মেমোরাবিলিয়া ও প্লেটোর সংলাপে জানাইয়াছেন, এই বচনের উপর তাহাদের গুরু কতটা গুরুত্ব দিয়াছেন। সক্রেটিস নিজেকে জানার ব্যাপারে তাহার ছাত্র ও শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন।
মানুষ যত সভ্য হইয়াছে, ততই মানুষ ‘নিজেকে জানো’ বাণীর মর্ম গভীরভাবে উপলব্ধি করিয়াছে। ইহা ব্যক্তির জীবনের জন্য যেমন, তেমনি রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্যও একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বাণী। কেহ যদি নিজেকে জানিতে পারে, সে বুঝিতে পারিবে কী চাহে, তাহার কী চাওয়া উচিত এবং কী করা উচিত। ঠিক একইরকমভাবে একটি জাতিরও বুঝিতে হইবে-তাহারা কী চাহে। ইহার সহিত জাতিকে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের জানিতে হইবে আরো শক্ত করিয়া যে, তাহারা কী চাহে। যদি কোনো জাতি বুঝিতে পারে, যদি তাহাদের নেতৃবৃন্দ বুঝিতে পারেন-কী তাহারা চাহেন, তাহা হইলে সেই জাতির সিদ্ধান্তসমূহ হইবে মজবুত-টেকসই।
একটি জাতিকে অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে দৃঢ়তার সহিত সিদ্ধান্ত লইতে হয়। তাহা না হইলে জাতির ভবিষ্যৎ দুর্বল হইয়া পড়ে। আর এই দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য পূর্বে প্রয়োজন নিজেকে জানা। একসময়ের বিখ্যাত চিনের সেনাপতি, সমরবিদ ও দার্শনিক সান শু তাহার ‘আর্ট অব ওয়ার’ গ্রন্থে লিখিয়াছেন, ‘তুমি অন্যকে জানার পাশাপাশি নিজেকেও জানো। যদি জানিতে পার তাহা হইলে মাঠের যুদ্ধই হউক আর জীবনের যুদ্ধই হউক-কোনো ক্ষেত্রে পরাজিত হইবে না।’
ব্যক্তিজীবনে এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে আমরা অনেক কিছু ঝোঁকের মাথায় করিয়া ফেলি, যাহা অদূরদর্শিতারই শামিল। আমাদের এই সকল সিদ্ধান্তের পিছনে কখনো কখনো অজ্ঞানতাও কাজ করিয়া থাকে। ঝোঁকের মাথায় আবেগের বশবর্তী হইয়া গ্রহণ করা কোনো কোনো সিদ্ধান্ত হইতে হঠাৎ করিয়া ভালো ফল পাওয়া যায়। তখন আমরা ভাবিয়া থাকি, ‘সঠিক সিদ্ধান্তই হইয়াছে’। কেহ কেহ ইহাকে নাম দিয়া থাকেন, ‘সুচিন্তিত’ সিদ্ধান্ত। আসলে ভালো করিয়া খোঁজ লইলে দেখা যাইবে, সিদ্ধান্তটি ‘রাগ, ক্ষোভ অথবা প্রীতির বশবর্তী’ হইয়াই লওয়া হইয়াছিল; কিন্তু ভালো ফল মিলিয়াছে। কিন্তু আমাদের সকলের বুঝা উচিত, এইরূপ ঝোঁকে লওয়া, আবেগের বশবর্তী হইয়া লওয়া সিদ্ধান্ত কখনো শক্তিশালী হয় না। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নিজেকে জানিবার উপর ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে।
দেশ যাহারা পরিচালনা করেন তাহাদের জন্য ইহা আরো গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতিকে পথ দেখাইতে হইলে নেতৃত্বদানকারীদের বাস্তবতার নিরিখে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হয় এবং সিদ্ধান্তে অটল থাকিতে হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন