• ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

কোভিডের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২০
কোভিডের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

যুগভেরী ডেস্ক ::
রেমডেসিভির ব্যবহারে রোগীর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি, মৃত্যুর ঝুঁকি কমা বা তার ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন না হওয়ার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত না পাওয়ায় কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় এর ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্যানেল থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়।
তাদের দিকনির্দেশনায় বলা হয়, ‘‘ডব্লিউএইচও-র প্যানেল রেমডেসিভির ব্যবহারে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমা, ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হ্রাস, চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থ হওয়া বা এ সংক্রান্ত কোনো সুবিধা হওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ পায়নি।”
কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় সম্প্রতি যে দুইটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, রেমডেসিভির তার একটি। কিন্তু গত মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়াড সায়েন্সেস ইনকর্পোরেশন উৎপাদিত রেমডেসিভিরের প্রভাব নিয়ে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিষয়ে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করে।
সেখানে সংস্থাটির গবেষকরা জানান, তাদের গবেষণায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতালে অবস্থানের সময় কমানো বা মৃত্যু ঠেকাতে ওষুধগুলো সামান্যই প্রভাব রেখেছে বা কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।
বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের ১১ হাজার ২৬৬ জন রোগীর উপর ওই ট্রায়াল চালানো হয়েছে।
ওই ট্রায়ালে রেমডেসিভির ছাড়াও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, এইডস নিরোধী লোপিনাভির/রিটোনাভির এবং ইন্টারফেরনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
ডব্লিউএইচও-র এই ট্রায়াল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গিলিয়াড।
গিলিয়াড কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‘সারা বিশ্বে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করা নামী সংস্থা হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় আমাদের ভেকলুরি (গিলিয়াডের তৈরি রেমডেসিভিরের ব্র্যান্ড নাম) কে মানসম্পন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।
‘‘বিশ্বে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা যখন আবার নাটকীয় ভাবে বাড়ছে এবং চিকিৎসকরা যখন এ রোগের চিকিৎসায় প্রথম ও একমাত্র অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ হিসেবে ভেকলুরির উপর আস্থা রাখছেন তখন ডব্লিউএইচও-র এই দিকনির্দেশনায় আমরা খুবই হতাশ। সংস্থাটি অন্যান্য ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সব প্রমাণ অগ্রাহ্য করছে।”
গত এপ্রিলে রেমডেসিভিরের সহায়ক ভূমিকার ‘সুস্পষ্ট’ প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে জরুরি অনুমোদন পায় রেমডেসিভির; এরপর থেকে বিভিন্ন দেশও ইবোলা ঠেকাতে তৈরি হওয়া এই ওষুধ কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসাও রেমডেসিভির ব্যবহার করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন