• ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

দোয়ারা বাজারে ভাই ভাই সেচ প্রকল্পের প্রসংশনীয় উদ্যোগ

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২০
দোয়ারা বাজারে ভাই ভাই সেচ প্রকল্পের প্রসংশনীয় উদ্যোগ

সংবাদদাতাঃ  সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার এলাকায় আবহাওয়া গত তারতম্যের কারণে সিলেটের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বৃষ্টিপাত অনেক কম। এছাড়া ও বৃষ্টিপাত যথাসময়ে হচ্ছেনা। সর্বোপরী খনন ও সংস্কারের অভাবে খাল-বিল ও নদী গুলোর পানির ধারন ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার গরীব কৃষকের স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বোরো ফসলের চাষাবাদ মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক চাষীদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিলে ও দোয়ারা বাজার উপজেলার ৭নং লক্ষীপুর ইউনিয়নে এর কোন ছোঁয়া লাগেনি। এমন কি সেচ কাজে ভ’-পরিস্থ পানি (ঝটজঋঅঈঊ ডঅঞঊজ) ব্যবহারের উপর কোন কার্যক্রম গ্রহন করা হয়নি আজ অবদি।
উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের টিলাগাওঁ, নোয়াপাড়া, রসরাই, লক্ষীপুর, সুলতানপুর, জিরাগাওঁ, চকবাজার ্ও কালাইউড়া এলাকার বোরো চাষীদের পানির অভাবে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা এমনই অবস্থায় গরীব কৃষকদের মুখে হাসি ফুটাতে এগিয়ে আসে ‘‘ভাই ভাই সেচ প্রকল্প’’। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এই সেচ প্রকল্পের উদ্যোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মহরম আলী সুমন জমিতে সেচ প্রদানের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহন করেন। লক্ষীপুর ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদী থেকে ৬টি সেচ পাম্পের মাধ্যমে বিগত তিন বছর যাবত বোরো জমিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে এলাকার প্রায় ৬০০০ হাজার কেদার জমিতে বোরো ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষক বান্ধব মহরম আলী সুমনের এই উদ্যোগের ফলে এলাকায় বোরো জমি চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পানি সরবরাহের চাহিদা ও দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তুু সরকারী আর্থিক সুবিধা ব্যাতিত সেচ প্রকল্পের পরিধি বিস্তৃত করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। যদি ও ভাই ভাই সেচ প্রকল্পের জন্য কোন ঋন বা কৃষি অধি দফতরের সহযোগিতা জোটেনি এখনো।
এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মহরম আলী সুমন জানান লক্ষীপুর ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের প্রান্তিক চাষীদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই ভাই ভাই সেচ প্রকল্পের এই উদ্যোগ। কিন্তুু এলাকার চাষাবাদের জন্য এটা পর্যাপ্ত নয়। পানি নির্ভর বোরো ফসলি জমিতে বছর ব্যাপী সেচ কার্যক্রম গ্রহন অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। সুমন বলেন আপাতত: ২৫/৩০ ঘোড়ার ৫/৬ টি পাম্প ও পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে এলাকার হাজারো ্ও গরীব কৃষক উপকৃত হবে। তিনি বিএডিসি সেচ প্রকল্প সিলেট এর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন আশাকরি এ ব্যাপারে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। সার্থক হবে আমাদের উদ্যোগ, প্রান্তিক চাষীরা সোনালী ফসল ঘরে তুলে হাসবে তৃপ্তির হাসি, বেমালুম ভ’লে যাবে হাড়ভাঙ্গা খাঁটুনি-প্ররিশ্রমের কষ্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন