• ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সিলেটে নারী উদ্যোক্তা মেলায় বেশিরভাগই নারী ক্রেতা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২১
সিলেটে নারী উদ্যোক্তা মেলায় বেশিরভাগই নারী ক্রেতা

হিলাল উদ্দিন শিপু ::::
সিলেটে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা চলছে। এই মেলায় বেশির ভাগ ক্রেতা ও দর্শনার্থী নারী। তবে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও আসছেন মেলায় বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে।

নগরীর শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা মাঠে এ মেলা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করেই মেলায় প্রবেশ করছে সবাই। মেলায় প্রবেশের পূর্বে থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপ নির্নয়সহ স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করার পর মেলায় ঢুকতে হয়।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথমদিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা সমাগম। স্টলগুলোতে নারীদের ভিড় বেশি ছিল।

মঙ্গলবার (১৬মার্চ) বিকেলে বাণিজ্যমেলায় ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এসেছেন মেলায় পছন্দের জিনিস কিনতে। মেলায় প্লাস্টিক পণ্য, এ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি (ক্রোকারিজ), ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিক্স’র স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এছাড়া প্রথম দিন থেকেই ভালো বিক্রি হচ্ছে। আবার কাঠ ও প্লাইউডের আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্র। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে মেলায় হকারদের আনাগোনা বেশি থাকায় বিব্রত হয়েছেন অনেক দর্শনার্থী।

মেলা থেকে গৃহস্থালি পণ্য কিনছিলেন সাদিয়া ইসলাম। তিনি জানান, মেলায় এসেছি, কারণ প্রথম দিকে ভিড় কম থাকে। বাণিজ্য মেলায় কম মূল্যে ও ভাল মানের গৃহস্থালি পণ্য পাওয়া যায়।

গৃহস্থালি পণ্য বিক্রেতা আমিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী পর থেকে দোকান দিয়ে আসছি। প্রতিবারই একটি স্টল দেয়ার চেষ্টা করি। কারণ মেলায় বিক্রি ভাল হয়। ওই বিক্রেতা বলেন, প্রথমদিকে বিক্রি তেমন না বাড়লেও ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। তবে দিন বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি বাড়বে বলেও জানান ওই বিক্রেতা।
বাণিজ্য মেলায় এবারে সবচেয়ে বেশি আর্কষণ হচ্ছে ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস ও জুতার স্টলগুলো। এই স্টলগুলোতে নারী ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। মেলায় এসেছে বাহারি রঙের বিভিন্ন দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পীস, কসমেটিকস এ ইমিটেশনের গয়না।
মেলায় ইমিটেশনের গয়না কিনছিলেন মমতা রায়। তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন দেশের কসমেটিকস, ইমিটেশনের গয়না পাওয়া যায়। তা ব্যতিক্রম, দৃষ্টিনন্দন ও মানের দিক দিয়ে সেরা। তিনি বলেন, ইমিটেশনের গয়নাগুলো শাড়ি বা থ্রি-পীসের সাথে মানানসই করে পড়লে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ববান মনে হয়। মেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে এসেছেন অনেক শিশু। মেলায় শিশুদের জন্য থাকছে নজরকাড়া ডিজাইনেরা পোশাক, জুতা ও খেলনা।
৫ বছরের মেয়ে রুমাইছা জন্য খেলনা কিনছিলেন মা স্বপ্না বেগম। তিনি বলেন, সিলেটে শিশু পার্ক ছাড়া বাচ্চাদের বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই প্রতিবছরই মেলায় বাচ্চাদের ঘুরতে নিয়ে আসি। এছাড়া এখানে শিশু পার্কের ব্যবস্থা রয়েছে। এই মেলা শিশুদের জন্য বিনোদন বটে।
মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তারা বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সদা প্রস্তুত। মেলায় গেটে চেকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেট কাটার পর সারিবদ্ধভাবে সবাই মেলায় প্রবেশ করছে। এছাড়া আমাদের নারী পুলিশও নিয়োজিত রয়েছে। আশা করি কোনো ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটবে না।
নারী উদ্যোক্তা মেলার মনিটরিংয়ে থাকা সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের মেম্বার সালসাবিলাহ মাহবুব কান্তা বলেন, দুপুরের পর থেকে মেলায় ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। আশাকরি আমাদের সিলেটের মেলার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা আরো বেরিয়ে আসবে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মহিলা স্টল নিয়ে এসেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হচ্ছে। পাশপাশি বর্তমান সরকার নারীদের কর্মতৎপরতা ও নিজেদের স্বাবলম্বী করতে যে কাজ করে যাচ্ছেন আমরা মনে করি এই মেলার মাধ্যমে আমরা তাতে অংশগ্রহণ করতে পারছি।

তিনি আরো বলেন, মেলা ব্যবসা সফল হবে। আমাদের আন্তরিকতার সবটুকু দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে মেলা পরিচালনা করছি।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তার সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স মেলাটি আয়োজনে করা হয়েছে।

ঝাঁকঝমকভাবে তৈরি করা হয়েছে মেলার প্রধান ফটক। মেলায় এবার স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে ১৫০টি। এর মধ্যে ৭টি প্রতিষ্ঠান বিদেশি।

কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই মেলা সকাল ১০ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ২০ টাকা, ছোটদের জন্য ফ্রি।

নারী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজক সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় জানান, মেলার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীল করা। সমাজে আজ নারীরা অবহেলিত নয়। নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে মেলার জুড়ি নেই। মেলার অনেকাংশে রয়েছে নারীদের স্টল।

নিজেদের একজন দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করতে আমাদের মেলা বিশেষ গুরুত্ববহন করছে। যার প্রমান হিসেবে সিলেটের বাহির থেকে নারীরা এসে মেলায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্টিত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন