• ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

ধর্মপাশায় নাস্তিক অপবাদ দিয়ে যুবকের ওপর হেফাজত সমর্থকদের হামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত মে ২২, ২০২১
ধর্মপাশায় নাস্তিক অপবাদ দিয়ে যুবকের ওপর হেফাজত সমর্থকদের হামলা
বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ :::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় আবারও নাস্তিক অপবাদ দিয়ে জাহানুর আহমেদ মনির খান (২৫) নামের এক যুবকের ওপর হামলা করেছে হেফাজত সমর্থকেরা। এতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সুখাইড়র রাজপুর উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জাহানুর এই ইউনিয়নের রংপুরহাটি গ্রামের জাগবর আলীর ছেলে। তিনি সুনামগঞ্জ শহরে একটি কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিতে চাকরি করে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল উপজেলার জয়শ্রী বাজারে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতাকে হেনস্থা ও তার ওপর হামলা করেছিল হেফাজত সমর্থকেরা।
জানা যায়, গত ২ মে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে হেফাজত নেতা মাও. মামুনুল হকে নিয়ে প্রচারিত সংবাদের একটি ভিডিও চিত্র ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন জাহানুর আহমেদ মনির খান।
 এরপর দিন তিনি ময়মনসিংহে হেফাজত নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ দুইজন গ্রেপ্তারের খবর একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সন থেকে ফেসুবুকে শেয়ার করেন। এই পোস্টে তিনি ক্যাপশন লিখেন ‘তাহলে আরও দুইজন গ্রেফতার, শেখ হাসিনার বাংলায় উগ্রবাদীদের ঠাঁই নাই।’ এ নিয়ে একই ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মৃত বৈশাখ আলীর ছেলে হেফাজত সমর্থক এমদাদুল হক তাকে মুঠোফোনে মারধরের হুমকি দেয় (অডিও রেকর্ড জাহানুরের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)। এছাড়াও জাহানুরকে নাস্তিক অপবাদ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করতে থাকে হেফাজত সমর্থকেরা। যে কারণে ভয়ে তিনি ঈদে বাড়িতে আসেননি। কিন্তু আজ শুক্রবার জাহানুরের ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় জাহানুর বাড়িতে আসেন। ওইদিন বিকেলে তিনি তার বন্ধুকে নিয়ে রাজাপুর বাজারে গেলে এমদাদুল হক, রংপুর গ্রামের সালাম উদ্দিনের ছেলে সাইদুর রহমান রোমান ও রহমতপুর গ্রামের রাজু আহমেদের ছেলে সুলতান রাজা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহানুরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জাহানুর মারাত্মকভাবে আহত হয়। আহত জাহানুর রাত ৯টায় ধর্মপাশায় থানায় অভিযোগ দিতে আসেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কারও বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে অভিযুক্তরা রাজাপুর বাজারে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে জানিয়ে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘ যারা হামলা করেছে তাদের অতীত ইতিহাস ভালো না। এমদাদ গাগলাজুরের একটি মসজিদে চাকরি করে।’
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘শুনেছি ধানের ভাগাভাগি নিয়ে নাকি এমনটি ঘটেছে। অন্য কিছু ঘটেছে কি না তা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সংবাদটি শেয়ার করুন