• ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

‘প্রধানমন্ত্রীরে দয়া কইরা কইওন, আমরা খুশি তাইনের উপরে ’

Daily Jugabheri
প্রকাশিত আগস্ট ২৭, ২০২১
‘প্রধানমন্ত্রীরে দয়া কইরা কইওন, আমরা খুশি তাইনের উপরে ’

ছবি : সুনামগঞ্জে মুজিব শতবর্ষের ঘর পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :::
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব শতবষর্’ উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জে ভূমি ও ঘরহীন ৪ হাজার ২০০ এর মতো দরিদ্র পরিবারকে আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের আদারবাজার পাশর্^বর্তী সুরমা নদীর চরে ১৫ টি গৃহহীর পরিবার ঘর পেয়েছে।
এখানে মুজিব শতর্বষের উপহারের ঘর পাওয়া রঙ্গারচরের জাহানারা বেগমের ১২ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। অন্যের বাড়িতে থেকে পাশের আদারবাজারে মুড়ি বিক্রি করে নিজের মেয়েকে স্কুলে পড়াশুনা করাচ্ছেন তিনি। মেয়ে ইতি বেগমকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘরে উঠতে পেরে বেশ খুশি জাহানারা বেগম।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়া জাহানারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকিকে বললেন,‘ প্রধানমন্ত্রীরে দয়া কইরা কইওন, আমরা খুউব খুশি তাইনের উপরে, আল্লায় যেন তাইনরে বেশি দিন বাছাইয়া রাখইন।’
আজ শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আদারবাজার পাশর্^বর্তী সুরমা নদীর চরে তৈরি করা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পরিদর্শন করার সময় আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকির কাছে মনের আনন্দ অনুভুতি এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন দরিদ্র জাহানারা বেগম।
মুজিব শতবর্ষের ঘর পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি বলেন,‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরে কোথায় কোথায় অনিয়ম দুর্নীতি বা ত্রুটি হয়েছে, সেই তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এই তথ্যগুলো আমরা শুধু জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নেই নি। অন্যান্য মাধ্যম থেকেও সংগ্রহ করেছি। আমরা আশা করেছিলাম এই ঘরগুলো আবেগ দিয়ে বানানো হবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে। হিসেব করে দেখা হয়েছে, দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ ঘরে অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় খুবই কঠোর, যারা অনিয়ম করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, আরও হবে।
হাওর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে বাজেট আরও কিছু বাড়ানো প্রয়োজন, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন,‘আমরা অনুভব করছি বরাদ্দ আরও একটু বাড়ানো দরকার। সে বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে এবং কিছু দিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন বরাদ্দ বেড়েছে।’
তিনি আরও জানান, হাওর-বাওর পরিবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জে যারা ভূমিহীন আছে, তাদের সংখ্যা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি আমরা। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২শ’ এর মতো ঘর করে দেয়া হয়েছে। আরও ঘর করে দেওয়া হবে এই জেলায়।
মুজিব শতবর্ষের ঘর পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে ছিলেন- সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আল ইমরান রহুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান শাহ্রিয়ার, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে প্রমুখ।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন