• ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আম্বরখানায় ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

Daily Jugabheri
প্রকাশিত অক্টোবর ১২, ২০২১
আম্বরখানায় ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

যুগভেরী রিপোর্ট
সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ী রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। সোমবার সকালে বাসার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চারতলা বাসার ছাদ থেকে পড়ে আব্দুল আউয়াল (৬০) নামের ওই ব্যবসায়ী মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আউয়াল সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার গোলকপুর গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে। নগরীর জিন্দাবাজারে আল হামলা শপিং সিটিতে একটি পোষাকের দোকান রয়েছে তার।
করোনাকালীন সময়ে আর্থিত সঙ্কটে পড়া আব্দুল আউয়াল হতাশায় ভূগছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
নগরের আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মফিফ উদ্দিন জানান, বড়বাজার এলাকায় ৬নং বাসায় বসবাস করতেন আব্দুল আউয়াল। তার বড় ছেলের বউ অন্তঃস্বত্তা। রোববার রাতে ছেলের বউকে নিয়ে বাসার সবাই রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। বাসায় শুধু আব্দুল আউয়াল ও তার ছোট ছেলে (১৭ বছর) ছিলেন। আজ ভোর রাতে আব্দুল আউয়াল বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।
এসআই মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, তিনি লাফ দিয়ে নিচে পড়ে মারা গেছেন। তবে আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে।’
আব্দুল আউয়ালের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। তবে তার পরিবার, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে সিসিকের স্থানীয় কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ বলেন, ‘দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক আব্দুল আউয়াল। তিনি এমপিওভুক্ত একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে সুবিধা করতে পারেননি। দেড় বছর পর হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এরপর মেয়ে জামাইয়ের সাথে নগরীর টিবি গেইট এলাকায় বসবাস করছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বছরখানেক আগে ব্যবসা শুরু করেন আব্দুল আউয়াল। এরপর পরিবার নিয়ে আলাদা বাসায় ওঠেন। কিন্তু মহামারির কারণে সবকিছু এলোমেলো হয়ে পড়ে। ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে সিটি কাউন্সিলর আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জীবন সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন আব্দুল আউয়াল। কারো সাথে তার শত্রুতা ছিল না। এই মৃত্যু নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ নেই। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন