• ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

গোলাপগঞ্জে আলোচিত ছালেহ আহমদ সাচ্চু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা : চার জনের যাবজ্জীবন ও এগারো জনের ১০ বছর করে কারাদন্ড

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ১০, ২০২১
গোলাপগঞ্জে আলোচিত ছালেহ আহমদ সাচ্চু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা : চার জনের যাবজ্জীবন ও এগারো জনের ১০ বছর করে কারাদন্ড

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের ছালেহ আহমদ সাচ্চু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় অভিযুক্ত ২৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে দন্ডবিধি আইনের ১৪৭/৩৪২/৩০২/১১৪/১৪৯ ধারায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরোও ৩ তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত সবাই গোলাপগঞ্জ থানার নগর গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- মদরিছ আলীর পুত্র নিজাম উদ্দিন উরফে মহিব, আইউব আলীর পুত্র জামিল আহমদ, গিয়াস উদ্দিনের পুত্র মোঃ রুহেল আহমদ ও মৃত শুয়া মিয়ার পুত্র কামাল।
অভিযুক্ত আরও ১১ জনের প্রত্যেককে ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরোও ১ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। তারা হলেন, নাজিম উদ্দিনের পুত্র মুনিম, মৃত হবিব আলীর পুত্র মইন উদ্দিন, নিজাম উদ্দিনের পুত্র আবীর, মৃত আত্তর আলীর পুত্র আতিক, মদরিছ আলীর পুত্র জিরাব ও নোমান, – মৃত মানিক মিয়ার পুত্র তাজ উদ্দিন, মাসুক উদ্দিন দুদুর পুত্র রিয়াজুল, চেরাগ আলী, মৃত আমির আলীর পুত্র শিহাব উদ্দিন ও মৃত ইলিয়াছ আলীর পুত্র লকু।
মামলায় অভিযুক্ত বাকী ১২ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তারা হলেন- তমজুল আলী, মজম্মিল আলী, একলাল, ছফুর আলী, ইসলাম উদ্দিন, আং জলিল, বলাই, লয়লু, জামাল, পাপলু, আকবর আলী ও হাফিজ উদ্দিন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিগত ১৭/০৮/১০ ইং গোলাপগঞ্জ উপজেলার নগর গ্রামের ছালেহ আহমদ সাচ্চু সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে নগর দক্ষিণ গ্রামের প্রফেসর মিজবাহ উদ্দিনের বাড়ীর সামনের রাস্তায় আসামীগণ বিভিন্ন ধরণের ধারালো ও ভোতা অস্ত্র দ্বারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। প্রায় ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ২১/০৮/২০১০ ইং ছালেহ আহমদ সাচ্চু মারা যান। পরের দিন ২২/০৮/২০১০ ইং মৃতের ভাই জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৮। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ১২/০১/২০১৪ ইং তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল তদন্ত শেষে ২৭ জনকে অভিযুক্ত করে সিলেটের অতি: চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। পরে মামলাটি সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানন্তরিত হলে (দায়রা মামলা নং-৭৯৫/২০১৪) বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পরে ধীর গতিতে এগোয় মামলার বিচার প্রক্রিয়া। মামলা মোট ৩৪ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামীদের জবানবন্দি, দীর্ঘ শুনানী ও বাদী-বিবাদী পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল ০৯ নভেম্বর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা মামলার রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন ও আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট ইকবাল আহমদ ও এম.এ. খালিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন