• ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১১ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

দিরাই বাসস্ট্যান্ডে যত্রতত্র পার্কিংয়ে ভোগান্তি চরমে

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০২১
দিরাই বাসস্ট্যান্ডে যত্রতত্র পার্কিংয়ে ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিরাই
যত্রতত্র পার্কিং আর ফুটপাত দখলে বেহাল রূপ ধারণ করেছে দিরাই পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি। সড়কেই পার্কিং করে রাখা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর থেকে আসা নৈশ-কোচ ও ট্রাক। যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে এ সড়কে যাতায়াতকারীদের যেমন অসহায়ত্ব বরণ করতে হচ্ছে, তেমনি পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
যেখানে জেলা শহর সুনামগঞ্জে যেতে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১ ঘন্টা সেখানে অধিকাংশ সময় যেকোন গাড়ি নিয়ে বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হতেই যানজটের কারণে সময় লাগছে ঘন্টা দেড়েক। অপরদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তার উপর ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও সিএনজি যত্রতত্র পার্কিং করায় যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। দিরাই শহরের যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং নিষেধ থাকলেও তা মানছেন না কেউই। সড়কে সারিসারি যানবাহন পার্কিং করে দিরাইয়ের সড়কগুলো যেন সংর্কীণ হয়ে পড়েছে।
মহাসড়ক থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এসব অবৈধ পার্কিং। ট্রাফিক পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিলেও থামানো যাচ্ছে না যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং। ফলে সড়কে জটলা নিত্যদিনের সঙ্গী। দিরাই পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড, হাসপাতাল রোড ও উপজেলা রোডে চলছে পার্কিংয়ের মহোৎসব। যানবাহনের জটলা দেখে মনে হবে যেন পার্কিংয়ের জন্যই স্থানগুলো বরাদ্দ। এতে পথচারীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
এছাড়া বাসস্ট্যান্ড পাড়ি দিয়েই চলাচল করতে হয় দিরাই সরকারি কলেজ, দিরাই জামেয়া মাদ্রাসা ও উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় যানজটে পড়ে খোঁয়াতে হয় ক্লাস। দিরাই পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে বাসস্ট্যান্ডটি সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া এখন সময়ের দাবি। দ্রুত এই সকল যানবাহন অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।
দিরাই ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ টিএসআই আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, দিরাইয়ে প্রধান প্রধান সড়কগুলো পার্কিং মুক্ত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ। অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা, রেকারিং করা হয়। পাশাপাশি মাঝে মধ্যে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তবে নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। লোকাল বাস রাখার যে জায়গা রয়েছে তা অত্যন্ত সীমিত সেখানে লোকাল বাস গুলোরই জায়গা হয় না। এর মধ্যে লেগুনা সিএনজিও সেখানে রাখা হয় সবমিলিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকাটিতে হযবরল অবস্থা। এছাড়াও দুরপাল্লার বাস রাখার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকায় তারা সড়কে গাড়ি পার্কিং করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের সাথে দফায় দফায় কথা বলেও এর সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা সুজনের সহ সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার বলেন, দিরাই পৌর শহরের চৌমোহনায় বাসস্ট্যান্ড হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসহনীয় যানজট লেগে থাকে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দুই যুগ অতিবাহিত হলেও শহর থেকে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর না হওয়া দুঃখজনক। শহর থেকে বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর সারা দিরাই বাসীর প্রাণের দাবি। আমরা বিশ্বাস করি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অচিরেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এব্যাপারে দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিৎ রায় বলেন, শহর কে বড় করার লক্ষ্যে এবং যানজট নিরশনে দীর্ঘদিন ধরে আমরা চেষ্টা করছি। বাসস্ট্যান্ডটি পৌর শহরের সিমান্তবর্তী এলাকায় হস্তান্তর করার মত এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন পৌরসভার পক্ষে সম্ভব নয়। হস্তান্তরের জন্য প্রকল্প তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন