• ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বিয়ানীবাজারে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ নিহত, আহত ১০

Daily Jugabheri
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২২
বিয়ানীবাজারে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ নিহত, আহত ১০

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এলডিপি নেতৃবৃন্দের সাথে যুবলীগের সংঘর্ষে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ নিহত হয়েছেন। তিনি তিলপাড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আওয়ামীলীগ নেতা সমছ উদ্দিনের ভাই। গতকাল দুপুরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দাসউরা গ্রামে স্থানীয় এলডিপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সরিজমিন জানা যায়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল ২৬ মার্চ দলীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে স্থানীয় এলডিপির উদ্যোগে দাসউরা গ্রামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ, সায়াদ আহমদ ও রাহাত আলম সেখানে গিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠতে চাইলে এলডিপি নেতৃবৃন্দ বাধা দেন। তখন যুবলীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষিপ্ত হয়ে জোরপূর্বক মঞ্চে উঠতে চাইলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় যুবলীগ ক্যডারার মঞ্চে ভাংচুর চালায়। অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। দেশীয় অস্ত্রের ঝনঝনানি ও ককটেল বিস্ফোরনে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধাঘন্টা উভয়পক্ষে এক রক্তক্ষীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সংঘর্ষকারীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা সোহেল আহমদ সহ ১০ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সোহেল আহমদকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তার। ডাক্তার জানান, অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণে সোহেল আহমদ হাসপাতালে আসার আগেই মারা যান।
এদিকে, সোহেল আহমদের মৃত্যুতে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে নিহত সোহেল আহমদের ভাই আওয়ামীলীগ নেতা সমছ উদ্দিন বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জনকে আসামী করে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সবাই বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- দাসউরা গ্রামের আজমত আলীর পুত্র করিম উদ্দিন, দাসউরা গ্রামের লিয়াকত আলীর পুত্র রহিম উদ্দিন, দাসউরা গ্রামের মিজান আলীর পুত্র ফয়েজ উদ্দিন, লাল মহাইচর গ্রামের আক্রম আলীর পুত্র আহসান আলী, একই গ্রামের মৃত আহমদ আলীর পুত্র নিয়াজ উদ্দিন, মৃত হাসিম আলীর পুত্র রায়হান আহমদ, রহমত আলীর পুত্র শাহাদত হোসেন, তেলিহাটি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র আলী আক্কাস, একই গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের পুত্র আলা উদ্দিন, মৃত হাসু মিয়ার পুত্র আহসান মিয়া, নয়ামাটি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র আলাউর রহমান, আলমাছ মিয়ার পুত্র শাহিন আহমদ, হারুন মিয়ার পুত্র জুয়েল আহমদ, সিদ্দেক আলীর পুত্র জমির উদ্দিন, আব্দুল আহাদের পুত্র রুহেল আহমদ, মৃত বাবর আলীর পুত্র সালাম উদ্দিন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক জানান, নিহত সোহেল আহমদের ভাই মামলা দায়ের করেছেন। এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। তবে আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এলাকার নিরাপত্তায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন