• ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বিএনপি দিনের আলোয় অমাবস্যার অন্ধকার দেখে : ওবায়দুল কাদের

Daily Jugabheri
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২২
বিএনপি দিনের আলোয় অমাবস্যার অন্ধকার দেখে : ওবায়দুল কাদের

যুগভেরী ডেস্ক ::: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি দিনের আলোয় অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। তাদের চোখ খারাপ হয়ে গেছে। তারা খালি বলে জনতার ঢল। কী ঢল দেখছেন, গাজীপুরে আসেন ঢল দেখাব। সিলেটে সুরমা নদীর ঢল, আর গাজীপুরে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ।’

শনিবার বিকেলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে শহরের ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। আর শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য হাওয়া ভবন থেকে মদদ দেয় মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান। ১৫ আগস্ট বাপ, আর ২১ আগস্ট বেটা। বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে তারা। শেখ হাসিনা ২০ বার এই মৃত্যুর মোকাবেলা করে আজ ১৪ বছর একাধারে ক্ষমতায়। শেখ হাসিনা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন উন্নয়ন কাকে বলে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের বুকে ব্যথা, বড় জ্বালা। কালো চশমা পরে কিছুই দেখতে পান না। তারা আমাদেরকে বলেন, তাড়াতাড়ি ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ প্রস্থান নিতে। গোটা দেশ যে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে, তাকে বলে পদত্যাগ করতে।

‘শেখ হাসিনা দয়া করে আপনাদের নেত্রীকে বাসায় রেখেছেন। গণঅভুথ্যান করবেন, এই নেত্রীর জন্য একটা মিছিলও করতে পারেন নাই। অথচ দেশনেত্রী বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা বের করে ফেলছেন। দেখতে দেখতে ১৩ বছর, আমরা বলেছিলাম আন্দোলন কোন বছর? দেখতে দেখতে ১৩ বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর?’

গাজীপুরের নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খেলা হবে, প্রস্তুত হয়ে যান। ভোট চুরির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে।’

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘কাঁথা-বালিশ, বিছানাপত্র, হান্ডি-পাতিল সব নিয়ে নেতাকর্মীরা সারা দেশ থেকে সিলেটে গেছে। যেখানে সমাবেশ হয় সাতদিন আগে থেকে রওনা হয়। খানাপিনা ভালোই চলছে। পাতিলে পাতিলে খাবার, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর মাংস, মাছের টুকরা এরপরে পেপসি-কোলা। ক্ষমতায় না থাকলে কী হবে, ভালোই আছে বিএনপি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতার রঙিন খোয়াব দেখছে। খোয়াব যত পারেন দেখেন, কোনো আপত্তি নেই। দিবাস্বপ্ন তো কতোজনই দেখে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলে নির্বাচনে হতে হবে। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। দুনিয়ার অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও ঠিক সেইভাবে নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।’

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সারা দেশকে নির্যাতন করে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল, দেশের গুণীজ্ঞানী ব্যক্তিরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের (বিএনপি) নেতাও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, অথচ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এখন আবার সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপি চায়। কিন্তু তাদের জন্য স্পষ্ট জবাব: বাংলাদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রের শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। এরা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিএনপি আবারও ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে, বিদেশিদের সাথে নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে, তাদের সকল অপচেষ্টা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ রুখে দিবে।’

এর আগে দিনভর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। কমিটিতে আগ্রহী প্রার্থী ও তাদের কর্মীসমর্থকরা সকাল থেকে রঙ-বেরঙের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও তার আগেই পুরো রাজবাড়ী মাঠ ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এতে করে আওয়ামী লীগের সম্মেলন মহাসমাবেশে রূপ নেয়।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবাহান গোলাপ এমপি, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার, ইকবাল হোসেন অপু এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবউদ্দিন ফরাজি, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, সংরক্ষিত আসনের শামসুন্নাহার ভূইয়া এমপি ও রুমানা আলী টুসি এমপি।

সংবাদটি শেয়ার করুন