• ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১৫ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

৭৬৯ কোটি টাকার শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ মহাসড়কের কাজে ধীরগতি

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২, ২০২২
৭৬৯ কোটি টাকার শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ মহাসড়কের কাজে ধীরগতি

যুগভেরী ডেস্ক ::: সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে হাওরবাসীর স্বপ্নের আঞ্চলিক মহাসড়ক। নির্মাণকাজ ৩৫ শতাংশ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এতে বেড়েছে প্রকল্প ব্যয়। এ ছাড়া বন্যা এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় কাজ চলছে ধীর গতিতে। কোনো কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়লে ব্যয়ও বাড়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই উপজেলার সাথে সড়ক সংযোগ এবং জেলাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সেই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৭৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

এর মধ্যে ৬ কিলোমিটার হবিগঞ্জ অংশে এবং বাকি ১০ কিলোমিটার সুনামগঞ্জ। পুরো সড়কে রয়েছে ১০টি ব্রিজ। হবিগঞ্জ অংশের কালনী নদীর উপর সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম ৮৮৮ মিটার ও কুশিয়ারার শাখা কোদালিয়া নদীর উপর ৪৪৪ মিটারের দুটি বড় ব্রিজ রয়েছে। বাকি আটটি ব্রিজ সুনামগঞ্জ অংশে।

শাল্লা-জলসুখা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের (হবিগঞ্জ অংশ) উপ ব্যবস্থাপক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬৯ কোটি টাকা। যেহেতু এটি হাওরের প্রকল্প, তাই সম্প্রতি প্রকল্পে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পানি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৬ কিলোমিটারে ৪২টি স্ল্যাব কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ অংশে ২৬টি এবং সুনামগঞ্জ অংশে ১৬টি। কালভার্টগুলোর দৈর্ঘ্য রাখা হয়েছে ৯, ৬ এবং ১২ মিটার।

‘সড়ক নির্মাণের জন্য হবিগঞ্জ অংশে ২ কোটি টাকায় ৪৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন এনে সম্প্রতি নতুন করে ৯৩৪ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এখন সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায়।’

হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের বাস্তবায়নে মহাসকড়কের নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড ও মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা জেভি। শুরুতে কাজের অগ্রগতি ভালো থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই থমকে গেছে নির্মাণকাজ।

মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা জেভির সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বন্যা এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে অনেকটা ধীর গতিতে চলছে কাজ। আশা করছি শিগগিরই নির্মাণ সামগ্রীর দামের কিছুটা সমন্বয় হবে। তখন পুরোদমে কাজ চলবে। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণের জন্য এখানে প্রচুর বালুর প্রয়োজন। সেটিও আমরা আশপাশে কোথাও পাচ্ছি না।’

শাল্লা-জলসুখা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের (হবিগঞ্জ অংশ) ব্যবস্থাপক শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ। ২০২৩ সালে জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। তবে হাওর এলাকায় বছরে ৪-৫ মাসের বেশি কাজ করা সম্ভব হয় না। তাই কাজের মেয়াদ আরও বছর দু’এক বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।’

পরিকল্পনা কমিশন ও সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রকল্পের আওতার এই সড়কটি নির্মাণ হলে শুধু দুটি উপজেলাই যুক্ত হবে না, হাওর অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে। সুনাগঞ্জের সাথে ঢাকার দূরত্ব কমবে অন্তত ৭০ কিলোমিটার। গতি বাড়বে হাওরের অর্থনীতিরও।

সংবাদটি শেয়ার করুন