• ৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

ওসি বদলি হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ !

Daily Jugabheri
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৭, ২০২৩
ওসি বদলি হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ !

নিজস্ব সংবাদদাতা, ছাতক
অবশেষে বদলি হয়েছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান। গত ২৭ নভেম্বর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বদলির আদেশ এলেও শনিবার স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পর থানা ত্যাগ করেছেন তিনি। এর আগেও শ্রীমঙ্গল থানা থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ছাতকে যোগদানের পর থেকেই নানান ইস্যুতে সমালোচিত হওয়া এই ওসির বদলিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে মিষ্টি বিতরণ করেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, আবু জাহিদ মো. আব্দুল গফফার, ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জাহিদ হাসান ডালিম, বর্তমান আহ্বায়ক তাজামুল হক রিপন, স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াহিদ, রায়হান আহমদ, মুজাক্কির হোসেন ও আশিকুর রহমান প্রমুখ।
তারা অভিযোগ করেন বলেন, ওসি মাহবুবুর রহমান যোগদানের পর থেকে থানায় চারজন এসআই দের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতেন পুরো থানা। নৌ-পথের চাঁদাবাজীর সুযোগ করে দিয়ে মাসিক হারে ঘুষ আদায়, পৌর শহরের অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য টাকা আদায়, ওসির বিরুদ্ধে এসপির কাছে অভিযোগ দেওয়ায় নিরপরাধ লোকদের মিথ্যা মামলায় ফাসানো, মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেয়ার ভয়ে অর্থ আদায়সহ নানান অপকর্মের জন্য ছাতক থানা যেনো অপরাধের আতুরঘর হিসাবে রুপ নেয়।
এসব বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ওসির সমালোচনা করার কারণে ছাতক উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সায়েন্তা তালুকদার রবিকে থানায় এনে নির্যাতন করে ওসির পা ধরিয়ে ক্ষমা চাওয়ার পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। সেই সাথে ফেইসবুকে লেখালেখির কারণে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন ওসি মাহবুব। প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো ফেরত দেয়া হয়নি তার মোবাইল ফোন। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়ার ভয়ও দেখানো হয় তাকে।
এ ব্যাপারে সায়েন্তা তালুকদার রবি জানান, ওসি মাহবুব বিনা কারণে তাকে নির্যাতন করেছিলেন এবং তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। ওই সময় তিনি কৈতক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন যার মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখলেই বুঝা যাবে কি ধরনের অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। কিন্তু ওসি এবং তার অপকর্মের সিন্ডিকেট সদস্য এসআই আসাদুজ্জামান রাসেল, আতিকুর রহমান এবং মহিন উদ্দিনের হুমকির কারণে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেননি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এবং আওয়ামী লীগের নেতারা অবগত আছেন। ওসির বদলিতে তারা আনন্দ মিছিলের প্রন্তুতি নিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আবু জাহিদ মোঃ আব্দুল গফফার জানান, ওসি মাহবুবুর রহমানের ঘুষ দূর্নিতির কারণে ছাতকবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছিলো। ছাতক থানায় এতোই মধু যে বদলী হওয়ার পরও এখানে থেকে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেছিলেন ওসি। ভূইফোড় কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তার পক্ষে নিউজ করিয়ে থানার ফোর্সদের দিয়ে সেগুলো ফেইসবুকে শেয়ার করিয়ে ভালো সাজার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু অবশেষে তার বদলী হওয়ায় এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে।
এ ব্যাপারে ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি নিয়মিতভাবেই বদলি হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন